জয় গোস্বামীর জন্ম ১০ নভেম্বর ১৯৫৪ তারিখে কলকাতা শহরে। ছোটবেলায় তার পরিবার রানাঘাটে চলে আসে। তখন থেকেই তার স্থায়ী নিবাস গড়েন সেখানেই। তার পিতার নাম মধুসূদন গোস্বামী ও মাতার নাম সবিতা গোস্বামী। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি 'ঘুমিয়েছো ঝাউপাতা?' কাব্যগ্রন্থের জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। জয় গোস্বামী দুবার আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত বজ্রবিদ্যুৎ-ভর্তি খাতা কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পান। এ ছাড়া বঙ্গভূষণ, বঙ্গবিভূষণ, সাম্মানিক ডি লিটও লাভ করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় এই কবি। জয় গোস্বামী -এর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থের সংখ্যা ৩৪ টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঘুমিয়েছো ঝাউপাতা? (১৯৮৯), পাগলী তোমার সঙ্গে (১৯৯৪), যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল (১৯৯৮), পাতার পোশাক (১৯৯৭) ইত্যাদি। এছাড়াও জয় গোস্বামী-এর প্রকাশিত উপন্যাস ও অন্যান্য গ্রন্থের সংখ্যা ২২ টি। এর মধ্যে কাব্যোপন্যাস যারা বৃষ্টিতে ভিজে ছিল(১৯৯৮), মনোরমা(১৯৯৪), সেইসব শিয়ালেরা (১৯৯৪), সুরঙ্গ ও প্রতিরক্ষা (১৯৯৫) ইত্যাদি।
জয় গোস্বামী
চোখ, চলে গিয়েছিল, অন্যের প্রেমিকা, তার পায়ে।
যখন, অসাবধানে, সামান্যই উঠে গেছে শাড়ি—
বাইরে নেমেছে বৃষ্টি। লন্ঠন নামানো আছে টেবিলের নীচে, অন্ধকারে
মাঝে মাঝে ভেসে উঠেছে লুকোনো পায়ের ফর্সা আভা…
অন্যায় চোখের নয়। না তাকিয়ে তার কোনো উপায় ছিল না।
সত্যিই ছিল না? কেন?—হুহু করে বৃষ্টিছাট ঢুকে আসে ঘরে
সত্যিই ছিল না? কেন?—কাঁটাতারে ঝাঁপায় ফুলগাছ
সত্যিই ছিল না? কেন?—অনধিকারীর সামনে থেকে
সমস্ত লুকিয়ে নেয় নকশা-কাটা লেসের ঝালর…
এখন থেমেছে বৃষ্টি। এখন এ-ঘর থেকে উঠে গেছে সেও।
শুধু, ফিরে আসছে হাওয়া। শুধু, এক অক্ষমের চোখের মতন
মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছে টেবিলের তলার লন্ঠন।